শিক্ষকদের অবসরের টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকদের অবসরের টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। কোনো ভোগান্তি থাকবে না। মধ্যস্বত্বভোগীর দ্বারস্থ হতে হবে না।’
তিনি পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট আ. লীগ সরকার লুটপাট করে অবসরের দুটি বোর্ড পঙ্গু করে রেখে গেছেন। শিক্ষকদের বাস্তব অবস্থা আমরা একটি ভিডিওতে দেখেছি—আগে ঘুষ দিয়ে ভাতার টাকা নিতে হতো।’
অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের অবসর-কল্যাণ ভাতার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা বিতরণ শুরু হয়। দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে শিক্ষকদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাঠানো হচ্ছে।
২০৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ
শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণের অর্থ পরিশোধে এককালীন ২০৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে সরকার। দীর্ঘ ০৪ বছর ধরে জমে থাকা বকেয়ার জট কাটাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক বৈঠকে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দিতে সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ অন্যান্যরা।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রচলিত নিয়মে শিক্ষকতা থেকে অবসর নিলেও আপনারা এখনও শিক্ষক। আপনাদের ভূমিকা সর্বজনগ্রাহ্য।’ শিক্ষকদের অবসর ভাতার ফান্ডে পর্যাপ্ত টাকা নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই টাকা দেওয়া হচ্ছে।